Wednesday, June 23, 2021
HomeEDITOR PICKSবাজ থেকে বাঁচবেন কীভাবে ?

বাজ থেকে বাঁচবেন কীভাবে ?

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাজ আগেও পড়ত। কিন্তু দিনে দিনে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। শুধুমাত্র সোমবারের বজ্রপাতে মাত্র পাঁচ জেলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কী কারণ এত বাজ পড়ার?
বিশেষজ্ঞদের মতে এর অন্যতম কারণ হচ্ছে গাছের ঘাটতি। একমাত্র গাছই পারে বাজের থেকে মৃত্যু ঠেকাতে। ফলে বৃক্ষরোপণ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি করতে হবে। বৃক্ষই পারে পরিবেশকে দূষণ মুক্ত করতে। দূষণ কম থাকলে বজ্রগর্ভ মেঘ কম সৃষ্টি হবে, ফলে বাজের পরিমাণ কমবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র এক বছরে পশ্চিমবঙ্গে বাজের পরিমাণ বেড়েছে ৯৯.৭৬ শতাংশ। ৭ লক্ষ ৬১ হাজার থেকে বাজের পরিমাণ এক বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লক্ষ ২১ হাজার। শুধু এই পরিসংখ্যানই নয়। শুধুমাত্র সোমবার বাংলায় কিছু ঘণ্টার মধ্যে ৬১,৩৬৪ টি বাজের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮,৫৬৮ টি বাজ মাটিতে পড়েছে এবং বাকিগুলি আকাশে মিলিয়ে গেছে। এই বাজের বাড়বাড়ন্ত মৌসম ভবনকেও ভাবাচ্ছে।

ইয়াস সরাসরি বাংলায় প্রভাব না ফেললেও যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প পাঠিয়েছে তার জেরেই বাড়ছে বজ্রগর্ভ মেঘের পরিমাণ। এই কিউমুলোনিম্বাস বা বজ্রগর্ভ মেঘে যেমন বাজ পড়ে, তেমনই বৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত জলীয়বাষ্পে এই মেঘের পরিমাণও বেড়েছে বাংলায়। এই বাজ স্বল্প জায়গার মধ্যেই পড়ে, যাকে বলে ক্লাউড টু গ্রাউন্ড বা মেঘ থেকে সরাসরি মাটির দিকে। অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প এবং দূষণের ফলেই এই মেঘের সৃষ্টি হয়।

কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত লোহার যন্ত্রপাতির কারণেও মৃত্যুর পরিমাণ বাড়ছে। লোহার যন্ত্রে বজ্রপাতের সময় তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ বেশি আকৃষ্ট হয়। ফলে চাষের ফাঁকা জমিতে যদি মানুষ থাকে, তবে ওই যন্ত্রপাতিতে আকৃষ্ট হয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটে। ফলে যেকোনো সময়ে বাজ পড়লে বাড়িতে জানালা দরজা বন্ধ করে রাখাই বাঞ্ছনীয়। সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবা, গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধ করে সতর্ক থাকতে হয়।

Most Popular