Wednesday, June 23, 2021
HomeEDITOR PICKSহোমের শিশুদের মনের কথা শুনতে হাজির মন্ত্রী নিজেই

হোমের শিশুদের মনের কথা শুনতে হাজির মন্ত্রী নিজেই

নিজস্ব সংবদদাতা: করোনা পরিস্থিতিতে ছোট থেকে বড় সকলেই রয়েছে একপ্রকার মানসিক চাপে। বড়রা এই সকলের মাঝে বুঝিয়ে নিতে পারছেন নিজেদের। বা নিজের অশ্বস্থির কথা প্রকাশ করতে পারছেন তার কাছের মানুষদের। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছে বাচ্চারা। বড়দের নিজের চিন্তার কারণে না তারা পারছে ছোটদের কথা শুনতে, আর ছোটরা না পারছে তাদের মনের কথা খুলে কাউকে বোঝাতে। তাই রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর তাদের অধীনে থাকা বিভিন্ন জেলার সমস্ত হোমের বাচ্চাদের কথা ভেবে নিলো এক নয়া উদ্যোগ।

হালেই পেরিয়ে এসেছি শিশু সুরক্ষা দিবস। সেই উপলক্ষেই শিশু সুরক্ষা কমিশনের তরফ থেকে একটি কর্মসূচির আয়োজন হয়। যেখানে মন্ত্রী শশী পাঁজা উপস্থিত ছিলেন ভারচুয়ালি। বিভিন্ন জেলার হোমের বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই তিনি বাচ্চাদের মনে থাকা নানা ধরনের প্রশ্ন জানতে পারেন। তার পরই সিদ্ধান্ত নেন প্রতি মাসে এমন কর্মসূচি আয়োজনের।

সরকারি হোমের নানা বয়সের বাচ্চার নানা আবেদন। সব শেষে ঠিক হল প্রতি মাসে এমন সাক্ষাৎকার হবে। এক পারে থাকবেন মন্ত্রী। অন্য পারে সরকারি হোমের বাচ্চারা। আপাতত ভারচুয়ালি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই মতো ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট একটি দিন ঠিক করে হবে ‘মিট দ্য মিনিস্টার’। বাচ্চারা তাদের মনের কথা খুলে বলবে।

তাদের মধ্যে কারও অতি সামান্য দাবি, পিৎজা বানানো শিখতে চায়। কেউ একটু হোমের বাইরে বেরোতে চায়। একটু এদিক-ওদিক ঘুরে দেখলে কেমন হয়, সে জানতে চেয়েছে মন্ত্রীর কাছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই কড়া বিধিনিষেধ শিথিল হলে একটু শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করা হবে। কেউ আবার একটু ছুটি চেয়েছে। বাড়ির লোককে দেখতে চায়। সাধ্যমতো সুযোগ হলেই তার ব্যবস্থা হবে।

একজনের প্রশ্ন বেশ সিরিয়াস। নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে সে। প্রশ্ন করেছে তার ১৮ বছর বয়স হলে কোনও সরকারি কাজ কি সে পেতে পারে? একজনের প্রশ্ন একটু কঠিন। সে চায় রিয়ালিটি শোতে গিয়ে সেরা হয়ে ফিরতে। হোমে এমন অনেকেই থাকে, যাদের পাচার হওয়া থেকে উদ্ধার করে আনা হয়। তাদের কি রিয়ালিটি শোয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?একজনের আবার খুব আগ্রহ মন্ত্রীর ছোটবেলা সম্পর্কে জানার। বলতে বলতে হেসেই ফেললেন শশী। তাঁর কথায়, “কতজনের কতরকম প্রশ্ন। যতটা পেরেছি জবাব দিয়েছি।”

এমন নানা আবেদনের কথা বলতে গিয়ে অনেক আগে এভাবেই একবার একটি শিশু তাঁকে দেখে মন্ত্রী হওয়ার শখ জাহির করেছিল। মন্ত্রী নিজে একজন ডাক্তার। সেই সুবাদেই তাঁর বক্তব্য, “এরা এখন একেবারে বন্দি। সেই কারণেই একটি ভারচুয়াল অনুষ্ঠান করে কে কেমন আছে, কারও কোনও সমস্যা, চাহিদা আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখান থেকেই একটি দিক বেরিয়ে এসেছে। এভাবে এদের একটু সঙ্গ দিতে পারলে মানসিক দিক থেকে এদেরও একটু ভাল লাগবে।”

Most Popular