Friday, July 30, 2021
HomeEDITOR PICKSঅবশেষে ধরা পড়ল মেধাবী চোর !

অবশেষে ধরা পড়ল মেধাবী চোর !

নিজস্ব সংবদদাতা:পড়াশোনতে মেধাবী হয়েও হাতসাফাইয়ের কাজে নিপুন হওয়ায় ভাগ্য সৌমাল্যকে বানানো পাকা হাতের চোর। ইংরেজিতে এম এ করলেও, পেশা করে নিল অবশেষে চুরিকেও। সৌমাল্য আসানসোলের বাসিন্দা। নিজের স্কুটি নিয়ে আসানসোল, হাওড়া, হুগলি এমন কি পূর্ব মেদিনীপুরেও একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে সে। তিন বছরে সংখ্যাটা প্রায় ১৬০-এর কাছাকাছি। আসানসোলের এই মেধাবী চোরকে অবশেষে জালে তুলল হাওড়া সিটি পুলিশ। আর এই মেধাবী চোরের জীবন কিভাবে কেটেছে তা শুনে তাজ্জব হয়ে রইলো হাওড়ার পুলিশ কর্তৃপক্ষরা।

ঘটনাসুত্রে খবর, গত ৯ জুন আন্দুলের একটি বাড়িতে চুরি করেছিল সৌমাল্য।সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ধরা পড়েছে সৌমাল্য এবং তার দুই সঙ্গী। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুবকটি শোনায় সিনেমার গল্প। আপাতপক্ষে সিনেমার গল্প লাগলেও ঘটনাটি সত্য ঘটনা।

সৌমল্যকে জিজ্ঞেসা করে জানা যায়, আসানসোলের বাসিন্দা সৌমাল্যর বাবা পূর্ত দফতরের অফিসার ছিলেন। সৌমাল্য ছোট থেকেই পড়াশোনায় যথেষ্ট ভাল ছিল। কিন্তু বরাবরই জিনিস চুরির নেশা ছিল তার। এমন কি, এই নেশার শুরু নিজের বাড়ি থেকেই। পুলিশের দাবি, ছোটবেলায় কখনও নিজের বাড়ি, কখনও প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে কখনও বাসন, কখনও অন্যান্য ছোটখাটো জিনিস সরিয়ে ফেলত সৌমাল্য। সেই থেকে শুরু। সৌমাল্য দাবি করেছে, সে ইংরেজিতে এমএ পাশ করেও মনোমতো চাকরি পায়নি সে। তাই সেই বেদনা নিয়েই পাকাপাকিভাবে চুরিকেই পেশা বানিয়ে নেয়।

জানা যায় স্কুটি নিয়েই সে বহু জায়গায় চুরি করেছে। আর ঠিক এভাবেই গত ৯ জুন আন্দুলের বাসিন্দা অভিজ্ঞান ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে চুরি করে সৌমাল্য। পরে অভিজ্ঞানবাবু লক্ষ্য করেন, চাবি যথাস্থানে থাকলেও আলমারি থেকে খোয়া গিয়েছে সোনার গয়না সহ টাকা পয়সা। অভিজ্ঞান বাবুর মা তাঁকে জানান, দিন কয়েক আগে এক অপরিচিত যুবক স্কুটি নিয়ে জল খাওয়ার নাম করে বাড়িতে এসেছিল। তারপর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে তাদের বাড়ির জিনিসপত্র।

অভিজ্ঞান নস্কর নাজিরগঞ্জ থানায় চুরির অভিযোগ নিয়ে যান এবং থানার বাইরে এক যুবককে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। কারণ মায়ের থেকে পাওয়া যুবকের সঙ্গে থানার বাইরে স্কুটি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই যুবকের চেহারার মিল ছিল। তাত্‍ক্ষণিক বুদ্ধি খাটিয়ে স্কুটির নম্বরটি নিয়ে নেন অভিজ্ঞান ঘোষ। এর পর নিজের কিছু সূত্র কাজে লাগিয়েই তিনি জানতে পারেন, ওই স্কুটি আসানসোলে নথিভুক্ত। আসানসোল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সৌমাল্য চৌধুরীর নাম পান অভিজ্ঞান বাবু। পুলিশই তাঁকে জানায়, এই সৌমাল্যর বিরুদ্ধে অতীতে অসংখ্য চুরির অভিযোগ রয়েছে আসানসোল এবং সংলগ্ন এলাকায়। এর পরেই গোটা বিষয়টি ফের নাজিরগঞ্জ থানাকে জানান তিনি। ঘটনার তদন্তে নেমে এবং বিভিন্ন প্রমাণ সাপেক্ষে সৌমাল্যকে দোষী সাব্যস্ত করে পুলিশ। এরপর তাদের ধরে নিয়ে এসে তল্লাশি চালালে চুরি যাওয়া গয়না সহ বেশ কিছু সামগ্রীও উদ্ধার হয়। প্রকাশ শাসমল এবং মাধব সামন্ত নামে এই দুই সঙ্গীর কাছেই চুরির মাল বিক্রি করত সৌমাল্য।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সৌমাল্যের পরিবার -পরিজনও বিরক্ত হয়ে উঠেছিল তার অত্যাচারে, তার মা আত্মহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে তার এই সমস্ত কাণ্ড দেখে।

Most Popular