Wednesday, June 23, 2021
HomeEDITOR PICKSবারবারার পাতা ফাঁদে পা দেন মেহুল চোকসি, যৌবনের কাছে বিকিয়ে যান

বারবারার পাতা ফাঁদে পা দেন মেহুল চোকসি, যৌবনের কাছে বিকিয়ে যান

বিশেষ সংবাদদাতা : ঘাড় পর্যন্ত লতিয়ে পড়া সোনালি চুল, যা মাঝে মাঝেই কৃষ্ণবর্ণ হয়ে যেত। বয়স তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ। এর মধ্যে লো কাট জামায় স্পষ্ট ইঙ্গিত বক্ষ বিভাজিকার। ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স। পানপাতার মত মুখ। আকর্ষণীয় যৌন আবেদন।

নিজে ঝড়ের মত গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যান। পেশায় নাকি ইনভেস্টর ব্যাংকার। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের আন্টিগায় পাঞ্জাব ব্যাংক প্রতারণা মামলার পলাতক ভারতীয় হিরে ব্যাবসায়ী মেহুল চোকসির বাড়ির উল্টোদিকের একটি বাড়ি ভাড়া নেন এই তরুণী।

মেহুল চোকসির স্ত্রী প্রীতি চোকসির অভিযোগ যে এই মেয়েটি আসলে সিবিআই -এর পাতা হানিট্রাপ -এর জমাট চাক ভাঙা মধু। যে মধু পান করতে গিয়েই তাঁর স্বামী আজ জেলের গরাদের ওপারে। প্রীতি জানাচ্ছেন, গত অগাস্ট মাসে এই তরুণী মেহুলদের বাড়ির বিপরীতে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার পর আগস্টের পাঁচ থেকে আট তারিখের মধ্যে সামাজিক মেলামেশার তাগিদে চোকসি পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হন।

এরপর ধীরে ধীরে মেহুল -এর সঙ্গে অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠেন বারবারা । মেয়েটির নাম কী ছিল বারবারা জোসেফ নাকি বারবারা জেসিক নাকি বারবারা সি তা মনে করতে পারছেন না প্রীতি। কিন্তু স্বামীকে বারবারার অন্তরঙ্গ হয়ে উঠতে দেখে প্রীতি বাধা দিলেন না?

মিসেস মেহুল চোকসি জানাচ্ছেন, যতবার তিনি প্রসঙ্গটি উত্থাপন করতে গেছেন ততবারই মেহুল তাঁকে থামিয়ে দিয়েছেন, একজন ইনভেস্টর ব্যাংকারকে তাঁদের কত প্রয়োজন তা বলে। আন্টিগার পাশের দ্বীপ ডোমিনিকায় অবৈধ প্রবেশের জন্যে মেহুল গ্রেপ্তার হন। প্রীতি জানাচ্ছেন, ২৩ মে দিনটি ছিল রবিবার। বারবারা- কে নিয়ে একটি ডিনার মিটিং- এর কথা ছিল মেহুলের।

বারবারা অনুরোধ করেছিল তাকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার। সেইমত মেহুল বারবারা -কে বাড়ি থেকে তুলে নিতেই বারবারা আবদার জোড়ে যে সে আন্টিগার হারবার -এর দিকে যেতে চায়। সমুদ্রের খাড়ির তীরে বিলাসবহুল কিছু রেস্তোরাঁ আছে। বারবারার সুঠাম শরীরের আকর্ষণ, তার আবেদনে মেহুল সাড়া দিতে দেরি করেনি।

সমুদ্রতীরে গাড়ি পার্ক করে তারা গাড়ি থেকে নামতেই দশ পনেরোজন যুবক তাদের ঘিরে ধরে।একটি যন্ত্রচালিত প্রমোদতরণীতে তাদের তোলা হয়। দুই পাঞ্জাবি যুবক ছিল বোটে। প্রীতি জানাচ্ছেন তাদের একজনের নাম গুরমিত, অন্যজনের গুরজিৎ। বোটে আর এক ভারতীয় ছিল যার নাম বিবেক। প্রীতির ধারণা এঁরা সবাই সিবিআই -এর অফিসার।

ডোমিনিকায় পৌঁছানোর পর অবৈধ প্রবেশের দায়ে মেহুল চোকসিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বারবারা- কে আর কেউ দেখতে পায়নি। মেয়েটা যেন মন্ত্রবলে অদৃশ্য হয়ে যায়। বন্দি অবস্থায় মেহুল এই কাহিনি শুনিয়েছেন প্রীতিকে। প্রীতি নিশ্চিত, বারবারা ছিল সিবিআই -এর পাতা একটি ফাঁদ, যে ফাঁদে পা গলিয়েছেন তাঁর স্বামী মেহুল চোকসি।

Most Popular